ডিপ্রেশন, ফ্রাস্ট্রেশনের চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে আর টিকতে না পেরে যখন কেউ আত্মহত্যা করে তখন পরিচিত ও অপরিচত সবাই যেই পরিমাণ দরদ দেখায় তার একশ ভাগের একভাগও যদি বেঁচে থাকতে দেখাতো তাহলে বোধহয় দেশে আত্মহত্যার হার অর্ধেকের নীচে নেমে যেত।
.
বেঁচে থাকতে যখন বিষণ্ণতায় ডুবে থাকে তখন কেউ পাশে তো দাড়ায়ই না বরং এটা নিয়েও আরো ট্রল আর অপমান করে। পাশে দাড়াবেই বা কেন, যাদের পাশে দাড়ানোর কথা তারাই তো ডিপ্রেশন তৈরীর অন্যতম কারন; হয় নিজেরা অপমান, অবহেলা আর অবজ্ঞা করে ডিপ্রেসড বানাবে অথবা ডিপ্রেসড হওয়ার পর তা নিয়ে ট্রল আর অপমান করে আত্মহত্যার দিকে ধাক্কা দিবে।
.
তারপর যখন মরে যায় তখন ঠিকই ভালোবাসা উথলে পড়ে, মায়াকান্নার পানিতে ভাসিয়ে ফেলে। অথচ এই ভালোবাসা আর মায়াকান্না এখন না দেখিয়ে বেঁচে থাকতে দেখালে, তখন বিদ্রূপের হাসি না দিয়ে ভালোবাসার মিষ্টি হাসি দিয়ে দু’টো কথা বললে, মমতার সাথে মাথায় হাত রেখে পাশে দাড়ালেই মানুষটি এভাবে জীবন থেকে হারিয়ে যেত না।
.
তোমরা যখন মৃত লাশকে দেখে মায়াকান্নার সাথে বল “কেন চলে গেলে?”, লাশটি যে তখন বলে “আমিতো চলে যেতে চাইনি, তোমরাই তো বাধ্য করেছো। তোমরা আমাকে কেন ধরে রাখলে না?”- তার সেই কথাটি কি শুনতে পাও?
.
তোমরা যখন বল, “এমনটি কেন করলে, আত্মহত্যাই সবকিছুর সমাধান নয়”, লাশটি যে তখন বলে, “বেঁচে থাকতেই তো সমাধান চেয়েছিলাম, বেঁচে থাকার জন্য তোমাদেরকে পাশে চেয়েছিলাম, তখন কেন সমাধান দাওনি, কেন পাশে দাড়াওনি?”- তা কি শুনতে পাও?
.
নাহ! তা কেন শুনবে! এসব শুনলে তো আর নতুন করে আরেকজন ডিপ্রেসড ব্যক্তিকে ট্রল করা যাবে না, অপমান, অবহেলা, অবজ্ঞায় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া যাবে না। কান্না করে সময় নষ্ট করে কি লাভ, যাও আরো দুয়েকজনকে অপমান, অবজ্ঞা, অবহেলা কর; তাদের ডিপ্রেশন নিয়ে ট্রল কর। নতুন কেউ না মরলে মায়াকান্না দেখাবা কিভাবে?!
.
ও হ্যা, এখন কিন্তু শুধু ডিপ্রেসড ব্যক্তিটিকে নিয়ে ট্রল করলেই হবে না, যারা তার পাশে দাড়াতে চায়, মোটিভেট করতে চায় তাদেরকে নিয়েও ট্রল করতে হবে; নাহয় যুগের সাথ তাল মেলানো যাবে না, লাইমলাইটে আসা বা নিজেকে এক্সেপশনাল প্রমাণ করাও যাবে না।
.
এতদিন তো তোমাদের শত্রু ছিল একপক্ষ, এখন কিন্তু দুই পক্ষ। এখন শুধুমাত্র ডিপ্রেসড ব্যক্তিটিই তোমাদের শত্রু বা প্রতিদন্দ্বী না, যারা মোটিভেট করে তারা যেহেতু ব্যক্তিটির পাশে দাঁড়ায় সেহেতু তারাও তোমাদের শত্রু এবং প্রতিদন্দ্বী। তাই দুই দলের পিছনেই লাগবা, অবশ্যই লাগবা।
.
তোমরা সবাই যখন প্রতিযোগীতায় নেমেছো যেভাবেই হোক ডিপ্রেসড ব্যক্তিকে আরো ডিপ্রেসড করবে সেখানে এই দুই চারজন ফালতু লোক আসছে তাদের মোটিভেট করতে, বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখাতে! কত্তবড় স্পর্ধা তাদের! এসব কোনভাবেই মেনে নেয়া যায়না, তাই তাদের নিয়েও ট্রল করবা, অবশ্যই করবা।

culiveউদ্দীপনাবিষণ্ণতাডিপ্রেশন, ফ্রাস্ট্রেশনের চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে আর টিকতে না পেরে যখন কেউ আত্মহত্যা করে তখন পরিচিত ও অপরিচত সবাই যেই পরিমাণ দরদ দেখায় তার একশ ভাগের একভাগও যদি বেঁচে থাকতে দেখাতো তাহলে বোধহয় দেশে আত্মহত্যার হার অর্ধেকের নীচে নেমে যেত। . বেঁচে থাকতে যখন বিষণ্ণতায় ডুবে থাকে তখন কেউ পাশে তো দাড়ায়ই...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University