আমি ছেলে হয়ে মেয়েদের সাইড নিয়ে লিখছি। হ্যাঁ, আমি মানছি মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় অনেকখানি বেশীই ফেভার চায় প্রায় সব ক্ষেত্রেই। কিন্তু একটা মেয়ে জীবনে কী কী স্যাক্রিফাইস করে সেটাও তো দেখতে হবে!
আমরা ছেলেরা হয়ত শারীরিক ভাবে বেশী পরিশ্রম করি যেমন মাথার ঘাম পায়ে ফেলে টাকা রোজগার, স্ত্রী-সন্তানের পাশাপাশি নিজের বাপ-মা’কে দেখাশোনা করাও আমাদের জন্য ফরজ। কিন্তু একটি মেয়ে যে পরিমাণ মানসিক ত্যাগ তিতিক্ষার মধ্যে দিয়ে যায় তার কোন তুলনা নেই।
প্রথমত, আমি যে মেয়েকে বিয়ে করবো, আমার সেই স্ত্রী নিজের এতদিনকার পরিচিত সাজানো গোছানো ফ্যামিলি ছেড়ে, নিজের বাপ-মা, ভাই-বোন’কে ছেড়ে শুধু আমার জন্যেই আমার কাছে আসবে সারা জীবনের মত, তার সব ভালো-মন্দে তার পাশে থাকা তো আমার দায়িত্ব। সম্পূর্ণ অপরিচিত পরিবেশে আস্তে আস্তে নিজেকে মানিয়ে নেয়া সহজ কথা নয়।

এরপরে আসা যাক রান্নার বিষয়ে। আমার মা আছেন। আমার মা’কে দেখে আমি উপলব্ধি করতে পারি। শীত-বৃষ্টি-গ্রীষ্ম যে ঋতুই হোক, আমার মা শুধু আমাদের কথা চিন্তা করে গরমে তাপে সিদ্ধ হয়ে, হাত পুড়িয়ে, শীতে কাঁপতে কাঁপতে রান্নাঘরের কোণে রান্নায় ব্যস্ত থাকেন। আমার মা একটি সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষিকা। মা খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে আমাদের জন্য রান্না করে কোনমতে ব্রেকফাস্ট করে স্কুলে যান এবং ভর দুপুরে স্কুল ছুটি হলে বাসায় ফিরে অল্প কিছু খেয়ে আবার আমাদের জন্যে রাতের খাবারের আয়োজন করেন। বিশ্রাম নেয়ার সময়টুকুও নেই। বাবা বেরিয়ে যান সেই সকালে আর ফিরেন রাত ১০-১১ টায়। ততক্ষণ পর্যন্ত মা জেগে থাকেন। আব্বু আসলে আব্বুকে খাবার দিয়ে তবেই ঘুমাতে যান। ততক্ষণ রাত ১২ টার বেশী বেজে যায়। পরিবারের জন্যে এত ডেডিকেটেড পরিশ্রম শুধু একজন মেয়েই কোন অভিযোগ ছাড়াই করে যেতে পারে।

আমার বোনকে দেখেছি, সেই ছোট্টবেলা থেকেই, বাইরে থেকে কিছু কিনে খেলে বা কেউ দিলে অথবা স্কুলের টিফিন, তা না খেয়ে আমার জন্য নিয়ে আসতো। বলত “দাদাভাই আর আমি ভাগ করে খাব”। অথচ লজ্জার সাথে আমি স্বীকার করছি, আমি কোনদিনও আমার ছোটবোনের জন্য এমন করে ভাবিনি। কিছু খেতে মন চাইলে একাই খেয়েছি। অবশ্য, আমার কাছে খাবারের ভাগ চাইলে আমি তাকে নিরাশ করিনি। 😂😂

এভাবে, মা কিংবা বোন অথবা প্রেমিকা/স্ত্রী রূপে নারী যুগে যুগে পুরুষকে সাহস যুগিয়েছে, পুরুষকে প্রেম-ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করেছে। সভ্যতার অগ্রগতিতে সেই নারীর অবদান কম কিছু নয়। একটি অট্টালিকার যে অংশটা আমরা দেখি সেটা প্রকাশ্য। সেটাকে পুরুষের কাজের সাথে তুলনা করা যায়। কিন্তু অট্টালিকাটি যে ভিত্তির ওপরে দাঁড়িয়ে থাকে, সেই ভিত্তি থাকে মাটির নিচে। যা প্রকাশ্য নয়। সেটাকে নারীর কাজের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। যা চট করে দেখা যায় না ঠিকই, তবে তা অট্টালিকাটিকে নিজ মহিমায় অধিষ্ঠিত করে রাখে। সভ্যতার অগ্রগতিতে পুরুষ এবং নারীর কাজ ঠিক এমনি। এমনকি বেহেশতের এতসব আরামের মধ্যে থেকেও আদম কিন্তু ঠিকই হাওয়ার অভাব অনুভব করেছিলেন। চারটি খানি কথা?!
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::

লিখা পাঠিয়েছেন-
আনন্দ বর্ধন ( আশিক ফয়সাল সজীব )
পদার্থবিদ্যা বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

culiveআদার্সগল্পশিক্ষাrespectআমি ছেলে হয়ে মেয়েদের সাইড নিয়ে লিখছি। হ্যাঁ, আমি মানছি মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় অনেকখানি বেশীই ফেভার চায় প্রায় সব ক্ষেত্রেই। কিন্তু একটা মেয়ে জীবনে কী কী স্যাক্রিফাইস করে সেটাও তো দেখতে হবে! আমরা ছেলেরা হয়ত শারীরিক ভাবে বেশী পরিশ্রম করি যেমন মাথার ঘাম পায়ে ফেলে টাকা রোজগার, স্ত্রী-সন্তানের পাশাপাশি নিজের...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University