facebook celebraty in bdআজকাল- না আজকাল নয়, বেশ অনেক দিন থেকেই লক্ষ করছি, ফেসবুকে কিছু সেলিব্রেটি উদয় হয়েছেন যারা জাস্ট মানুষের সিম্প্যাথি পাওয়ার জন্য ইমোশন নিয়ে লেখালেখি করেন। ইমোশন নিয়ে লেখালেখি করলে কোন সমস্যা ছিল না, সমস্যা বাধে তখনই যখন ইমোশনাল লেখালেখি এমন পর্যায়ে চলে যায় যেখান থেকে ফেরা অনেক কষ্টকর।
এসব লেখা সাধারণত, “রাত ১০ টায় আম্মুর হাতের রান্না খেয়ে ঘুমুতে গেলাম আর সকালে ঘুমের থেকে ওঠার আগেই মরে গেলাম” কিংবা, “অনেক স্বপ্ন নিয়ে ঈদে বাড়ি যাচ্ছিলাম আর মাঝপথে এক্সিডেন্টে মরে গেলাম। এরপরে আমার আত্মা বাড়ি গিয়ে দেখলো মা-বাপ কান্নাকাটি করছে” — এই টাইপের। আজব এক জাতি এই বাঙালী। এরা সস্তায় লাইক কমেন্ট পাওয়ার আশায় এক ভয়ংকর প্রতিযোগিতায় মেতে উঠছে। একদম সচেতন ভাবেই। যেসব লেখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেসব লেখা নিয়মিত ভাবে লেখা রীতিমত একটা ক্রাইমের পর্যায়ে পড়ে। কারণ, নিয়িমিত ভাবে এসব লেখা পড়তে পড়তে যে কেউ মানসিক ভারসাম্যহীনতার শিকার হতে পারেন। আমার পরিচিত এমন অনেকে আছেন যারা এসব লেখা পড়ে সামান্য হলেও বিষণ্ণতায় ভুগেছেন। কিন্তু আফসোসের বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশ বলেই এসব তৃতীয় শ্রেণীর সেলেব্রেটিরা পার পেয়ে যাচ্ছে। প্রথম বিশ্বের কোন দেশ হলে কখনো এত সহজে ছাড়া পেত না। কারণটা অত্যন্ত পরিষ্কার, “বিষণ্ণতার বিস্তার একটি মারাত্মক অপরাধ”।
এই বিষয়টি আপাত দৃষ্টিতে তুচ্ছ মনে হলেও এটা যে কত সুদূরপ্রসারী বাজে প্রভাব সৃষ্টি করে তা বোঝার ক্ষমতা বাঙালী’র নেই। কোন দিনই ছিল না। এই কারণেই তো হুমায়ুনের মত তথাকথিত সাহিত্যিক মধ্যবিত্ত জীবনের অন্ধকার সাইডের ইমোশন নিয়ে লেখালেখি করে হতাশ মানুষকে আরো বেশী করে হতাশায় ডুবিয়ে দিতে পেরেছেন। কোন বিচার হয়নি।

এবার আমার কথা বলি। মানুষের মনে এমনিতেই অনেক দু:খ কষ্ট দানা বেঁধে আছে। তার উপরে মধ্যবিত্ত হলে তো কথাই নেই। যে মধ্যবিত্ত চাকুরীজীবীর সংসারে অভাব অনটন নিত্যসঙ্গী, সেই মধ্যবিত্ত পরিবারের কেউ যদি, লবণ আনতে পান্তা ফুরায় টাইপের কোন লেখা পড়ে যেটা হুমায়ুন করেছেন, তাহলে তো সে জীবন সম্পর্কে অবসাদের চূড়ান্তে পৌঁছে যাবেই। এ আর নতুন কী!? তাই বলসি, লেখালিখির আরো অনেক টপিক্স আছে। সেসব নিয়েও অনেক সুন্দর সুন্দর সাহিত্যকর্ম রচনা করা যেতে পারে। কয়েকটা লাইক পাওয়ার আশায়, এই হতাশায় নিমজ্জিত জাতিকে আরো বেশী করে হতাশার গ্লানিতে ডুবিয়ে দেয়ার কোন মানেই হয় না। কী?? ঠিক তো??????
::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
আনন্দ বর্ধন
পদার্থবিদ্যা বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

culiveBlogStoryতরুণ স্টাইলমতামতসেলিব্রেটিআজকাল- না আজকাল নয়, বেশ অনেক দিন থেকেই লক্ষ করছি, ফেসবুকে কিছু সেলিব্রেটি উদয় হয়েছেন যারা জাস্ট মানুষের সিম্প্যাথি পাওয়ার জন্য ইমোশন নিয়ে লেখালেখি করেন। ইমোশন নিয়ে লেখালেখি করলে কোন সমস্যা ছিল না, সমস্যা বাধে তখনই যখন ইমোশনাল লেখালেখি এমন পর্যায়ে চলে যায় যেখান থেকে ফেরা অনেক কষ্টকর। এসব লেখা...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University