story
Changing the word impossible to possible.

আমি এক লেখকের কথা বলতে পারি যিনি তার জীবনে যত গল্প উপন্যাস লিখেছেন তার মধ্যে একটা লেখাও অনুপ্রেরণা মূলক কিংবা আনন্দমূলক নয়।। তার লেখায় হতাশার বিষয়টা প্রকটভাবে প্রকাশিত হয়েছে।। তার লেখা পড়লে যে কেউ ভাবতে পারে যে মানবজীবনটা আসলে অহেতুক একটা বিষয় এবং দৈনন্দিন জীবনে সফলতা এবং ব্যর্থতা’র মধ্যে ব্যর্থতাকেই গুরুত্ব দেয়া উচিৎ!!! তার লেখা পড়লে জীবন সম্পর্কে হতাশ ব্যক্তি আরো বেশী হতাশ হয়ে যেতে পারে এবং এটা মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে যা আত্মহত্যা পর্যন্ত গড়াতে পারে!!! যেমন ধরা যাক,, গল্পের একটি চরিত্র চাকরী হারালো।। এখন এই চরিত্রের জীবনে আরো কোন সম্ভাবনা আছে কি না সেটা সেই লেখকের লেখায় পাওয়া যাবে না।। তার লেখায় যা পাওয়া যাবে তা হলো এই চরিত্র টি হয়ত কিছুদিন পরে ”জ্যোৎস্না’র ডাকে সাড়া দিয়ে” একদিন লোকালয় থেকে অদৃশ্য হয়ে যাবে এবং কিছুদিন পরে আধাপাগল অবস্থায় তাকে কোন রেলস্টেশনে দেখা যাবে।। অবাক ব্যাপার হলো ওই আধাপাগল অবস্থাতেও এই চরিত্রটি হয়ত আইনস্টাইনের থিওরি অব রিলেটিভিটি ব্যাখ্যা করতে পারে!!!!!!! এর চাইতে হাস্যকর এবং বানোয়াট গল্পের বিষয়বস্তু আর কী হতে পারে!!! আমি মনে করি এই লেখকের সব লেখা অল্পবয়সী পাঠকদের জন্য নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন।। তা না হলে যে কোন অল্পবয়সী পাঠক এইসব মিথ্যা তথ্যে ভরপুর লেখা পড়ে প্রভাবিত হয়ে যেতে পারে।। উল্লিখিত লেখকের জীবনের ইতিহাস পড়লে দেখা যায় যে তার নিজের জীবনের প্রথমদিকের অর্ধেকটাই ছিল হতাশাময়।। এবং তিনি তার হতাশা এই দেশের সহজ সরল পাঠক-পাঠিকার মনে খুব পরিকল্পিত ভাবে বিস্তার করে দিতে ছিলেন বদ্ধপরিকর।।

চেতনা’র পক্ষের একজনকে চিনি,, যে কথায় কথায় ৭১ এর চেতনার কথা বলে কিন্তু তার কালেকশনে যেসব মুভি আছে তার মধ্যে দশটা মুভির মধ্যে ৬ টাই হলো হিন্দি মুভি আর বাকি চারটা ইংলিশ।। সে নিজে কিন্তু বাংলা মুভি দেখে না।। এবং তার কাছে এটা অনাবিষ্কৃত নয় যে,, হিন্দি আর ঊর্দূ’র মধ্যে বিশেষ পার্থক্য নেই শুধু ঊর্দূ লেখা হয় আরবীর হরফে!!!

বিশ্ববিদ্যালয়ের যে উপাচার্যটি কোন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ফার্স্টক্লাস বাদ দিয়ে থার্ড ক্লাসের গ্রেড পাওয়া যে ছাত্রটিকে বিশেষ রাজনৈতিক বিবেচনায় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছেন,, সেই উপাচার্য কিন্তু তার নিজের সন্তানদেরকে ওই শিক্ষকের কাছে পড়তে পাঠাতে চাইবেন না।। এবং বাস্তবেও তাইই হয়।। দেখা যায় যে উপাচার্যের সন্তানেরা অক্সফোর্ড কিংবা হার্ভার্ডের না হলেও নিদেনপক্ষে ভারতের কোন ভার্সিটির সিল মারা!!!!

একটি “”অতি উন্নত!!!!”” দেশের কথা বলতে পারি।। যে দেশটির মাথাপিছু আয় এখনো অনেক অনেক কম এবং যে দেশটির বেশীরভাগ লোক এখনো তিনবেলা খেতে পায় না এবং এটম বম্ব না থাকলেও যে দেশের আছে “”চেতনা বম্ব!!””,, সেই দেশে মেডিকেল পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস হলো এবং বহু সংখ্যক অযোগ্য স্টুডেন্টস শুধু লবিং এর জোরে এখন মেডিকেলে পড়ছে,, সেই দেশের কোন মন্ত্রী অসুস্থ হলে তার নিজের অতি উন্নত দেশের মেডিকেল কলেজের ডাক্তারের কাছে না যেয়ে সিঙ্গাপুর কিংবা ইংল্যান্ডের মত অনুন্নত (!!!) দেশে ডাক্তার দেখাতে যায়!!! কেন এই দ্বিচারিতা???!!! তবে কি নিজের দেশের ওপর আস্থা নেই????

এভাবে সবগুলো সেক্টরে দ্বিচারিতা এবং দুর্নীতি বিস্তৃত হয়ে যাচ্ছে অথচ সেই অতি উন্নত দেশের মানুষেরা এখনো ঘুমুচ্ছে।। উন্নতির ফাঁকা বুলির আশ্বাসে আশ্বস্ত হয়ে গভীর সেই ঘুম!! যা আর কোনদিনই ভাঙবে না।।
::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::

আশিক ফয়সাল সজীব
Department of Physics
University of Chittagong

https://i2.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2017/07/positive-story.jpg?fit=425%2C282https://i1.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2017/07/positive-story.jpg?resize=150%2C150culiveজবসশিক্ষাgolpoআমি এক লেখকের কথা বলতে পারি যিনি তার জীবনে যত গল্প উপন্যাস লিখেছেন তার মধ্যে একটা লেখাও অনুপ্রেরণা মূলক কিংবা আনন্দমূলক নয়।। তার লেখায় হতাশার বিষয়টা প্রকটভাবে প্রকাশিত হয়েছে।। তার লেখা পড়লে যে কেউ ভাবতে পারে যে মানবজীবনটা আসলে অহেতুক একটা বিষয় এবং দৈনন্দিন জীবনে সফলতা এবং ব্যর্থতা'র মধ্যে...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University