ঘটনাটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পেইজ থেকে নেয়া হয়েছে —

‘ওড়না বিষয়ে বিতর্ক’
প্রথমেই সবার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি, আমার নিজস্ব ফেসবুক আইডি ব্যবহার না করে এই পেজের দ্বারস্ত হয়েছি কিছু কথা বলার জন্য। জানি না পেজ কর্তৃপক্ষ আমার এই লেখা প্রকাশ করবে কি না।
যাই হোক, আমি ৪৬ ব্যাচের একজন ছাত্র। বিষয়টি খুব ই কন্ট্রোভার্সিয়াল বিধায় আমার পরিচয় লুকিয়ে এমন একটি পাবলিক প্লেসে লিখতে হয়েছে যেখানে বেশী সংখ্যক মানুষ কে কাভার করা যায়।
কিছুদিন পূর্বে আমার এক বান্ধবী ওড়না ছাড়া টাইট ফিট জামা পরে ক্লাসে আসে যাতে তার বক্ষদ্বয় ও অন্যান্য অংগ-প্রত্যংগ সুস্পষ্ট ভাবে বোঝা যাচ্ছিল। সে আমার পাশেই বসেছিল। বিষয়টি আমার জন্য বিব্রতকর ছিলো। আমি খুব স্বাভাবিকভাবেই মানুষের স্বাভাবিক যেই যৌণ কামনা থাকে তার কারণে উত্তেজিত হয়ে পড়ছিলাম। বিষয়টা আমাকে খুব অস্বস্তিতে ফেলেছিল। আমি বান্ধবীকে বললাম, এইভাবে ওড়না ছাড়া বক্ষদ্বয় কে প্রদর্শন করা অনুচিত। আমরা মানুষ, আমাদের যৌণ চাহিদা আছে। আর তোমার এভাবে শরীর প্রদর্শন নারী পুরুষের স্বাভাবিক শারীরতাত্ত্বিক উত্তেজনা কে জাগিয়ে তোলে। তোমার ওড়না পরা উচিৎ ছিলো। আমার এই ধরনের বক্তব্যে বান্ধবী আমার খুব রেগে যায়। সে আমাকে বলে তোদের মতো কামুক পুরুষদের কু নজর থেকে বাচার জন্য আমাকে ওড়না পড়তে হবে কেনো? আমি ওড়না পড়ি বা না পড়ি সেটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার। তুই তোর নজর কে সংযত কর। মানসিকতা উন্নত কর। সব সময় নোংরা যৌণ চিন্তা নিয়ে চলা বন্ধ কর। আমি বললাম, দেখ, আমি যৌণ কামনা না নিয়ে তাকালেও বিষয়টা আমাদের শারীরতাত্ত্বিক স্বাভাবিক আয়োজনের কারণেই তোর শারীরিক কাঠামো প্রদর্শিত হলে আমরা উত্তেজিত হয়ে পড়তে পারি। আর তোর শরীর কাঠামো এভাবে প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা ঠিক না। মানুষ অপরাধ থেকে বাচার জন্য পূর্ব থেকেই প্রোটেকশন নিতে হয়। এই কথায় সে আরো রেগে গেলো বললো, তুই কি আমাকে বস্তা বন্দী হয়ে থাকতে বলিস। সমস্যা আমার না, সমস্যা তোর নোংরা মানসিকতার। আমি আর কোন কথা বললাম না।
কিছুদিন পর আমি ট্রাউজার পরে, নিচে কোন আন্ডারওয়ার না পরেই সেই বান্ধবীর পাশে বসলাম। আমার পুরুষদন্ড খুব কটু ভাবেই পোশাকের উপর দিয়ে বোঝা যাচ্ছিল। আর আমি বারবার তার সামনে হাটছিলাম। বিষয়টা তা নজরে পড়ায় সে অস্বস্তি ফিল করছিলো। এক পর্যায়ে সে আমাকে ডেকে বললো, এইভাবে তোর পুরুষ দন্ড প্রদর্শন করার কোন মানে হয় না। ব্যাপার টা খুব ওড দেখা যায়। নিচে কিছু পরা উচিৎ তোর। আমি প্রতুত্তরে বললাম, দেখ আমি কি পরবো না পরবো সেটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার। এতে আমার পুরুষদন্ড দেখা গেলে ওড হবে কেনো। এটা তোর নংরা মানসিকতার কারণে হয়েছে। সে বললো না, এইভাবে দৃষ্টিকটু ভাবে এসব প্রদর্শন ঠিক না। আমি বললাম, ঠিক। এক্সাক্টলি আমি তোকে এটাই বলতে চাচ্ছি, তোর দেহ কাঠামো বোঝা যায় এমন ভাবে পোশাক পরা উচিৎ না। ঠিক এই কারণে আমি তোকে সেদিন ওড়না পরতে বলেছিলাম।
আমি যদি আমার পুরুষদন্ড যাতে দৃষ্টিকটুভাবে প্রদর্শিত না হয় সেভাবে থাকতে হয়, নারীদেরও উচিৎ তাদের দেহ কাঠামো দৃষ্টিকটুভাবে যাতে প্রদর্শিত না হঅয় সেভাবে পোশাক পরা। বিশেষ করে যৌণ উদ্দীপক অংগের ক্ষেত্রে অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করা উচিৎ। কারণ, আমরা মানুষ। আমাদেরও যৌণ চাহিদা রয়েছে। যৌণ উদ্দীপক পরিবেশ সৃষ্টি হলে আমরা উত্তেজিত হয়ে উঠতে পারি। মানসিকভাবে আমরা শক্তিশালী নৈতিকতার অধিকারী হলে হয়তো আমরা অপরাধে জড়াবো না কিন্তু তবুও আমরা উত্তেজিত হবো খুব স্বাভাবিক শারীরতাত্ত্বিক কারণেই।
আমরা যেমন দূর্ঘটনা থেকে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য রাস্তায় স্প্রিড ব্রেকার, ফুট ওভারব্রিজ, নির্দিষ্ট গতিসীমা, নেশা না করে গাড়ি চালানো প্রভৃতি নইশ্চিত করি ঠিক তেমনি যৌণ দুর্ঘটনা থেকে বাচার জন্য আমাদের উচিৎ যৌণ উদ্দীপক পোশাক পরিধান থেকে বিরত থাকা। আপনার যৌণ অংগগুলো খোলামেলাভাবে পরিবেশন করা সভ্যতার মধ্যে পড়ে না। যেসব আপু তাদের বক্ষদ্বয়কে প্রদর্শন করে বেড়ান আর বলে বেড়ান এটা আমার পোশাকের স্বাধীনতা, মনে রাখবেন স্বাধীনতা সীমাহীন হতে পারে না। আপনি যেমন আমার কাছ থেকে যৌণতার ক্ষেত্রে নৈতিকতা কামনা করেন, আমিও আপনার কাছে পোশাকের নৈতিকতা চাই। নৈতিকতা শুধু মনস্তাত্ত্বিক হলেই হয় না, বাস্তবিক পরিস্থিতি বিবেচনায়ও আপনাকে পোশাকের নৈতিকতা, চলা ফেরার নৈতিকতা মেনে চলিতে হয়।
আপনি আমাকে বলছেন, ধর্ষণ করবেন না। যৌণ হয়রানি করবেন না। এগুলো নৈতিকতার আলাপ। নৈতিকতা বলেই আমি এসব অপকর্ম থেকে বিরত থাকবো। ঠিক তেমনি আমি আপনাকে বলবো যৌণ উত্তেজক পরিবেশ সৃষ্টি করবেন না। আপনার যৌণ অংগ এমনভাবে প্রকাশ করবেন না যা দৃষ্টিকটু ও নৈতিকতা বিবর্জিত।
পুরুষের তাদের পুরুষাঙ্গ প্রদর্শন করে বেড়ালে যেমন আপনার অস্বস্তি হবে, তেমনি আপনার বক্ষদ্বয় প্রদর্শন করে বেড়ালে আমার অস্বস্তি হয়।
বিঃ দ্রঃ আমি এখানে ‘বক্ষদ্বয়’ ‘পুরুষদন্ড’ প্রভৃতি শব্দ খোলাখুলি ব্যবহার করেছি। এর কারণ আপনারা যখন পাবলিক স্ট্যাটাসে ‘মাসিক’ ‘ন্যাপকিন’ ‘স্রাব’ শব্দ ব্যবহার করার সময় বলেন এগুলো খুব স্বাভাবিক শারীরতাত্ত্বিক ব্যাপার। এতে লজ্জার কিছু নাই। তাই আমিও খুব স্বাভাবিক ব্যাপারগুলো খোলাখুলি ব্যবহারে লজ্জা পাই নাই। আর হ্যা, কেউ যৌণ উত্তেজক পরিবেশে উত্তেজিত হওয়া মাসিক হওয়ার মতোই খুব স্বাভাবিক শারীরতাত্ত্বিক ব্যাপার, এতে লজ্জা পাওয়ার কিছু নাই। তাই আমার উত্তেজিত হওয়া অনৈতিক কিছু না যতোক্ষণ না আমি সীমা লংগন করছি।

https://i1.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2017/07/orna.jpg?fit=285%2C177https://i0.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2017/07/orna.jpg?resize=150%2C150culiveউদ্দীপনাক্রাইম এন্ড "ল"ornaঘটনাটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পেইজ থেকে নেয়া হয়েছে --- 'ওড়না বিষয়ে বিতর্ক' প্রথমেই সবার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি, আমার নিজস্ব ফেসবুক আইডি ব্যবহার না করে এই পেজের দ্বারস্ত হয়েছি কিছু কথা বলার জন্য। জানি না পেজ কর্তৃপক্ষ আমার এই লেখা প্রকাশ করবে কি না। যাই হোক, আমি ৪৬ ব্যাচের একজন ছাত্র। বিষয়টি খুব...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University