নওমুসলিম ড. আলফাতুন্নিসা কালিমা আপুর
ওয়াল থেকে নেওয়া
আমি একজন নওমুসলিম হয়েও যেসব কারণে জোর
গলায় ইসলামের কথা বলি–
যখন আমার বয়স যৌবনে, ঠিক সে সময়ে রুপ-
সৌন্দর্যের ফিরিস্তি নিয়ে অবৈধ প্রেম/
ভালোবাসার রাস্তার দিকে না গিয়ে
আমার হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে ব্যাপক স্টাডি শুরু
করলাম।
পরে ইসলামের ইতিহাস নিয়ে অনার্সে ভর্তি
হলে এই দু’টি ধর্মের ব্যাপারে আমাকে
ভাবিয়ে তুললো।
শুরু করলাম Compirable Analaysis.
দু’ধর্মের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্নের সম্মুখিন
হয়েছি ধর্মগ্রন্থ নিয়ে, যেমন-
হিন্দু ধর্ম গ্রন্থ গুলু স্থানভেদে ভিন্ন এবং
পরিবর্তিত, অর্থাৎ আগে ছিল রামায়ন, এখন
বেদ।
এভাবে শূন্য পূরাণ, গ্রন্থসায়েব, উপনিষদ,
মহাভারত, ত্রিপিটক, আদিকান্ড, অগ্নিলীলা,
শ্রীমগধবগীতা, রাধা-কৃষ্ণের অবৈধ প্রমলীলা,
গনেশ-গোবিন্দের নিজের বোন বিয়ে করার
মত লোমহর্ষক কাহিনী ইত্যাদি ধর্মীয় গ্রন্থ এবং
ধর্মের অংশ!
অথচ ইসলামে কেবল মূল একটি ধর্মগ্রন্থ ‘কুরান’ আর
তার ব্যাখাকারি ‘হাদিস’!
প্রশ্ন জেগেছিলো, আমার ধর্ম যদি ভগবানপ্রদত্ত
হয়, তাহলে এতগুলু পরস্পরবিরোধী ধর্মগ্রন্থ
থাকবে কেন?
ঐশীবাণী তো কেবল একরকমই হতে হবে?
দ্বিতীয় যে প্রশ্ন মনে জেগেছিল তা হলো-
মাঠি, পাথর ইত্যাদি দিয়ে তৈরি ভগবানের
এতরকম প্রতিচ্ছবি কেন?
অবশ্যই ভগবানকে মানুষ দেখেছে বলেই এই রুপ
তৈরি করেছে!
তাহলে এ যুগে এসে কেউ ভগবানকে
দেখছেনা কেন??
তাছাড়া ভগবানের আকৃতি মানুষের মত হবে
কেন??
যদি মানুষের মত হয়, তাহলে ভগবান আর মানুষের
মাঝে তফাৎটা কি???
৩য় যে প্রশ্নটি মনে উঁকি দিয়েছিল তা হল-
গনেশ, কার্তিক, গোবিন্দ, নারানী, রাধা,
নৃরানী প্রত্যেকেই একেকজন দেবতাদের অবৈধ
মিলনের ফলে জন্ম হয়েছে…!!!
প্রশ্ন এখানেই, সুষ্টু বিবেকসম্পন্ন কেই এটাকে
মানতে পারবেনা।
তাছাড়া মানুষের পেঠে জন্মলাভকারী মানুষ
দেবতা হবে কি করে??
শেষটি ছিলো অত্যন্ত নগন্য, তবে খুব ভয়ের,
প্রায় দেবতাদের তিনটে করে চোখ, যেমন,
দুর্গা, গনেশ ইত্যাদি।
রাত্রে ঘুমাতে যাওয়ার আগে দু’টো
স্বাভাবিক চোখ বাদে কপালের এই চোখ
কল্পনা করার সাথে ভয়ংকর একটা অভয়ব মনে
চলে আসতো, আপনিও চোখ বন্ধ করে ৩ চোখযুক্ত
কাউকে কল্পনা করুন, দেখবেন এমনিতেই মনে ভয়
ঢুকে গেছে।
এবার শুরু করলাম সত্য উদঘাটনের যুদ্ধ।
একটি জায়গায় গিয়ে আটকে গেলাম,,,,
ভারতবর্ষের অনেক হুজুররের বয়ান শুনেছি
মোবাইলে, সরাসরি, বই পড়েছি অনেক।
হিন্দু ধর্মের কল্পিত কাহিনী, রুপকথার গল্পের
মত অবিশ্বাস্য স্বপ্নের কাহিনী যখন ইসলামের
হুজুরদের এবং বিভিন্ন বইতে পাচ্চিলাম তখন
কোন কূল কিনারা পাচ্চিলামনা।
একটি গল্প পড়ে ইসলামের প্রতি খারাপ ধারণা
এসেছিলো–
গাংগুবি নামের একজন হুজুর নাকি ওয়াজের
মন্চে বসে থেকে তামাম দুনিয়া ঘুরতে
পারেন, এমনকি তিনি নাকি অনেক মহিলার
হারানো সন্তান দুনিয়া থেকে ঘুরে এসে
খূঁজে বের করে ফিরিয়ে দিতেন, মৃত মানুষকে
জিন্দা করেছিলেন।
বিশ্বাস করুন, যে আজগুবি আর কল্পলোকের
রুপকথাকে ঘৃনা করে ইসলাম ধর্মের প্রতি আসক্ত
হয়েছিলাম, সে ধর্মে দেখি আমার হিন্দু
ধর্মের চেয়েও জগন্য ও অবিশ্বাস্য কাহিনী
আছে!!!!
একজন স্বাভাবিক মানুষ কখনোই এসব মানতে
পারেন না,,, তাই কতিপয় হুজুরদের কাছে
গেলাম,
দুএকজন বাদে সবাই হিন্দু নাম শুনলে মূখে কাপড়
দিয়ে.. যাও যাও করে তাড়িয়ে দিয়েছে।
অবশেষে এক বন্ধু বললো,,,
তোমার এই ধর্মীয় প্রশ্নগুলুর উত্তর যেমন কেউ
দিতে পারবেনা তেমনি শুনবেও না,,,,একজন
বাদে!!!
আর তিনি হলেন ডা. জাকির নায়িক।
আললাহু আকবর, একদিন সব প্রশ্ন করার পর তিনি
উত্তর দেয়ার সময় আমার মনের মধ্যে আসা অন্য
প্রশ্নগুলু নিজে নিজেই বলে দিচ্ছেন!!!
এ যোগ্যতা ঐশ্বরিক না হলে সম্ভব না। তখন
থেকেই ইসলাম আমার প্রিয়।
ইসলামের জন্য ৪ মাস গঙ্গা-১৮ ব্লকে জেল
কেটেছি, তাই আমি আজীবন ইসলামের কথা
জোর গলায় বলে যাবো ইনশাআল্লাহ।।

https://i0.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2017/07/islam_muslims_praying_banner_7-31-16-1.sized-770x415xc.jpg?fit=770%2C415https://i0.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2017/07/islam_muslims_praying_banner_7-31-16-1.sized-770x415xc.jpg?resize=150%2C150culiveআইটিধর্মনওমুসলিম ড. আলফাতুন্নিসানওমুসলিম ড. আলফাতুন্নিসা কালিমা আপুর ওয়াল থেকে নেওয়া আমি একজন নওমুসলিম হয়েও যেসব কারণে জোর গলায় ইসলামের কথা বলি-- যখন আমার বয়স যৌবনে, ঠিক সে সময়ে রুপ- সৌন্দর্যের ফিরিস্তি নিয়ে অবৈধ প্রেম/ ভালোবাসার রাস্তার দিকে না গিয়ে আমার হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে ব্যাপক স্টাডি শুরু করলাম। পরে ইসলামের ইতিহাস নিয়ে অনার্সে ভর্তি হলে এই দু'টি ধর্মের ব্যাপারে আমাকে ভাবিয়ে তুললো। শুরু করলাম...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University