উপরে উঠার সিঁড়িআমাদের সমাজে একটা এক শ্রেণীর মানুষ আছে যারা আপনার ইতিবাচক কোনো কর্মের বিপরীতে এক হয় কোনো সাড়া দিবে না, আর নাহয় ফর্মালিটি মেইনটেইন করার জন্য জাস্ট “ভালো” বলে চুপ থাকবে। কিন্তু যখনই সেটা নেতিবাচক কিছু হবে তখনই এই চুপচাপ জনতা যুদ্ধের চাইতেও বিশাল শোরগোল সৃষ্টি করে ফেলবে এই হয়েছে, সেই হয়েছে বলে বলে! তখন প্রত্যেকেই হয়ে যাবে একেকজন চিন্তাবিদ, গবেষক, বুদ্ধিজীবী!

আমি যেখানে দাঁড়িয়ে একটা সংখ্যাকে 9 এর মতো দেখছি তার ঠিক বিপরীত পাশে দাঁড়িয়ে অন্য কেউ সেটাকে 6 এর মতো দেখবে। এখানে আমি বা অন্যজন কেউই ভুল না। এখন আমি যদি মনে করি না, আমিই ঠিক এবং অন্যজন কিছুতেই ঠিক হতে পারে না তাহলে অবশ্যই আমি বলদ কমিটির সদস্য!
আমি ঠিক মানেই যে বাকি সবাই ভুল কিংবা আমি যেটা জানি সেটাই ঠিক আর বাকি সব ভুল এটা ভাবাটাই হচ্ছে বলদামি। পৃথিবীতে 700 কোটির মতো মানুষ আছে। 700 কোটি মানুষের 700 কোটি রকম চিন্তা-ভাবনা, মেন্টালিটি থাকবে! আমার সাথে যার মতের মিলবে না তাকে ধইঞ্চা ভাবা আর যারটা মিলবে তাকে লর্ড ভাবাটাও বোকামি।

“নিজে যাকে বড় বলে বড় সে নয়, লোকে যাকে বড় বলে বড় সে হয়” টাইপের কথাবার্তা ছোটবেলায় বইতে পড়লেও কিছু মানুষদের বেলায় এটার ঠিক বিপরীত। তাদের চিন্তা ভাবনা অনুযায়ী তারাই স্বঘোষিত বিশাল কিছু আর বাকিরা সব জিরো। তারা এটা কিভাবে প্রমান করে? যে জিনিসটা বা যে বিষয়টায় তাদের আপনার চাইতে বেশি দক্ষতা আছে সেটা বারবার আপনার সামনে ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করে। আপনি অন্য কোনো দিক থেকে তার চাইতে এগিয়ে থাকলে অবশ্যই সে সেটা স্কিপ করে যাবে!

আবার কিছু মানুষ আছে যাদের সাথে আপনি যতই নরমাল থাকুন না কেন, যতই ভালো থাকুন না কেন তারা সবসময় এটাই প্রমান করতে চাইবে যে তারা আসলে আপনার কাছ থেকে ভালো কিছু চায় না, আপনি তাদের দু-চোখের বিষ!
এদের কারো সাথেই আপনার জমিজমা নিয়ে বিরোধ থাকবে না, সৎ ভাই-বোনের মতো সম্পর্কও থাকবে না। কিন্তু তারপরেও কোনো এক অজানা কারণে এরা মনে মনে আপনাকে শত্রু বানিয়ে ফেলবে! সকল ক্ষেত্রে আপনাকে এরা একটা প্রতিদ্বন্দ্বী বানিয়ে ফেলবে!
হয়তবা আপনি তাদেরকে পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল মালিশ করে তাদের মন জয় করতে পারেন নি কিংবা আপনার কোনো একটা দিক তাদের পছন্দ হয় নি যেটাকে ভিত্তি করে আপনি তাদের অপছন্দের লিস্টে যোগ হয়ে গেছেন।
আপনি শত চেষ্টা করে চাইলেও এই লিস্ট থেকে আপনার নাম কাটাতে পারবেন না, কারন তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আপনার পজেটিভ কোনো কিছুই তারা আমলে নিবে না, বরং নেগেটিভ কিছু পেলে জামাত সহকারে আপনার গুষ্ঠি উদ্ধার করার জন্য রওনা হবে!
দেখা গেলো কোনো একটা কাজ তারা করতে চায়, কিন্তু পারছে না কিংবা কোনো একটা কাজ তাদের একদমই পছন্দ না যদিও তা অন্যদের জন্য অবশ্যই মন্দ কিছু নয়। এখন ঐ কাজটা যদি আপনার দ্বারা সম্ভব হয়ে থাকে তাহলে আপনি হয়ে যাবেন তাদের কলিজায় জ্বালা ধরানো ব্যক্তি। তাদের কথা হলো- “আমরা যেটা পারিনা কিংবা আমাদের যেটা পছন্দ নয় সেটা আরেকজন কেন পারবে? কেন করবে?!”
গিরগিটির মতো রঙ পাল্টানো এই মানুষগুলোর পেশা না হলেও নেশার মতোই। তাদের প্রিয়পাত্র বা প্রিয়পাত্রীদের কাছ থেকে পাওয়া তেল তারা মজুদ করে রাখে। দরকারের সময় ঠিকই আপনাকেও মারবে। হ্যাঁ, এরাও তেল মারতে পারে। তবে তার পিছনে সবসময়ই একটা উদ্দেশ্য বা স্বার্থ থাকে।
স্বভাবতই এই টাইপের মানুষগুলাও জীবনে বড় হতে চায়, উপরের দিকে উঠতে চায়। তবে আফসোসের ব্যাপার হলো তারা ভাবে অন্যকে ছোট করাই হলো নিজে বড় হওয়া, অন্যকে নীচে নামানোর মানেই হলো নিজে উপরে উঠা। এই টাইপের মানসিকতা নিয়েই তারা ঘুরেফেরা করে থাকে।
ভালো মন্দ বিচার করার ক্ষমতা এদের যে নেই তা কিন্তু নয়, তবে আপনার বেলায় ভালোকে ভালো আর মন্দকে মন্দ বলার ব্যাপারে তাদের অনীহা দেখবেন, কারন মানুষটা আপনি যে কিনা তাদের অন্তরে হিংসার বীজ গজানোর দায়ী!
এ টাইপের মানুষদের কাছে আপনি কখনও আপনার কর্মের জন্য এপ্রিসিয়েশন আশা করবেন না, বরং তাদের সমালোচনাপূর্ণ মন্তব্যবের আশায় থাকুন। তাহলেই দেখবেন স্বাভাবিক লাগছে এবং এটা আপনাকেও কাজে দিবে!
কিছু কিছু সময় দেখবেন আপনার ভালো কিছু তাদের কাছে খারাপ লাগছে। এই সময় হয়কি, না পারে কিছু কইতে, না পারে সইতে। যার জন্য আপনার প্রতি একটা হিংসাত্মক মনোভাব চলে আসে! তাদের প্রিয়পাত্র হতে হলে আপনাকে তাদের চাইতে ছোট হতে হবে, আপনাকে তাদের চাইতে নিম্ন পজিশনে থাকতে হবে! এর বিপরীত হলেই আপনি ভালো না!

আমার কাছে সবচেয়ে অবাক লাগে তখন যখন দেখি এই মানুষগুলো কোনো কিছু কেয়ার করেনা করেনা বলেও আজীবন শুধু অন্যদের কাজকর্ম নিয়েই লাফালাফি করে যায়, কিভাবে কারো নেতিবাচক কোনো দিক খুঁজে বের করা যায় সেই চেষ্টায় থাকতে দেখা যায়! আপনি স্বর্গে গেলেও আপনার যেকোনো একটা খুঁত তারা বের করবেই! অথচ নিজের কাজের কোনো খবর নাই! যদি সব কেয়ার করত তাহলে কি অবস্থা হতো আমার বোধগম্য হয় না!
যাক, বাদ দেই সেসব কথা। কথায় কথা বাড়ে!

আপনাকে তারা ঘৃণা বা হিংসা করছে? করুক! তাদের ঘৃণাত্মক ও হিংসাত্মক মনোভাব ইগনোর করুন, কিন্তু তাদেরকে ইগনোর করবেন না। বরং তাদের আশেপাশেই থাকুন, কারন তারাই আপনার উপরে উঠার সিঁড়ি।

I.K. Shakil
Department of Public Administration.
University of Chittagong.

https://i0.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2017/07/sidi-upore-utar.jpg?fit=700%2C336https://i0.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2017/07/sidi-upore-utar.jpg?resize=150%2C150culiveBlogStoryআদার্সক্যারিয়ারব্লগউপরে উঠার সিঁড়িআমাদের সমাজে একটা এক শ্রেণীর মানুষ আছে যারা আপনার ইতিবাচক কোনো কর্মের বিপরীতে এক হয় কোনো সাড়া দিবে না, আর নাহয় ফর্মালিটি মেইনটেইন করার জন্য জাস্ট 'ভালো' বলে চুপ থাকবে। কিন্তু যখনই সেটা নেতিবাচক কিছু হবে তখনই এই চুপচাপ জনতা যুদ্ধের চাইতেও বিশাল শোরগোল সৃষ্টি করে ফেলবে এই হয়েছে,...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University