cu shuttle cu nwsশাটলের আত্নকথন
—————————
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৮০ সন থেকে আমার জন্ম,
আমার পথচলা। বিশ্বে আমিই একমাত্র যা হাজার হাজার
মেধাবী ছাত্রদের সুখ- দুঃখ, হাসি- কান্না, আনন্দ-
বেদনার সাক্ষী। বয়স ৩৬ এর কৌটায় তবু কেউ আমায় বৃদ্ধ
বলে ডাকে না।
ট্রেনের মত আমার অনেক বগি রয়েছে, ট্রেনের মত আমিও
যাত্রী বহন করি। তবে পার্থক্য হলো আমি শাটল অর্থাৎ
সব ট্রেন শাটল নয় কিন্তু শাটল হলো ট্রেন।
আমার পেটে করে প্রতিদিন হাজার হাজার মেধাবীরা
যাতায়ত করে। তাদের সুখ – দুঃখ,বেদনায় ভরা আমার উদর।
আমার প্রতিটি অঙ্গ মনের মাধুরী মিশিয়ে রঙ্গ করে
তারা, প্রতিটি অঙ্গের সুন্দর সুন্দর নামকরণ ও করেছে
তারা যেমন ফাটাফাটি, খাইট্ট খাঁ,৬৯,ফাইট ক্লাব,
বিজয়,কনকর্ড, সাম্পান অলওয়েজ, সি এফ সি ইত্যাদি।
একদিন এক দর্শনার্থী আসলো আমাকে দেখার জন্যে,
আমার নাম শুনেছে সে তার বাবার কাছ থেকে। তার
বাবার কত স্মৃতি আমার অঙ্গে লেগে আছে তার হিসেব
নেই।সেই স্মৃতি গুলো নিজের মধ্যে ভাগ করার জন্যে ই
তার আসা।
বাবুটি ষোলশহর স্টেশনে এসে দেখলো রঙ্গে রাঙ্গানো
লম্বা এক বিশাল দেহ। বুঝতে বাকি রইল না আমিই তার
স্বপ্নের শাটল ট্রেন।
,
এরপরের দৃশ্য দেখে একটু হতাশ হলো, স্টেশনে আমি
থামতে না থামতেই হাজার হাজার শিক্ষার্থী পেটে
ডুকে পড়ল এবং কতগুলো পিঠে উঠে পড়ল। এমতাবস্তায়
সে দেখল তার বসার জায়গা নেই। আর কোন উপায় ছিল
না তাকে দাড়িয়ে থাকতে হলো এবং তার সাথে আরো
শিক্ষার্থী দাড়িয়ে রইল। আমার পেটে এমন জ্যাম
হয়েছিল সে একটু বিরক্ত স্বরে বলল ‘ এখানেই কি আমার
বাবার স্মৃতি জড়িয়ে আছে! অসহ্য!
আমি চলতে শুরু করলাম প্রকৃতি ও আমার সাথে চলতে শুরু
করল, আমি আওয়াজ করলাম কিন্তু আমার আওয়াজ
প্রকৃতিতে মিশে গেল যেন কতকাল ভালবাসা হয়নি।
একটু পরেই জানালা দিয়ে মৃদু শীতল হাওয়া তার গায়ে
পড়লে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস পেলে, এর সাথেই সাথেই
পেটের দুপাশ থেকে
হাজার প্রাণের একি সুর ভেসে আসতে লাগল তার কর্ণে।
একদিকে শীতল হাওয়া, হাজার প্রাণের গানের সুর এবং
অন্যদিকে প্রকৃতির মাঝে আমার দোলনা যেন এক টুকরো
স্বর্গ খুঁজে পেল। শান্তির পরশে সিক্ত হয়ে সে আমার
জাদুগরি প্রেমে মজে গেল।
শুনেছিল সে তার আব্বুরা কয়েকজন বন্ধু মিলে এক সাথে
যাতায়ত করত। শাটলে উঠলে ই তাদের মাঝে আনন্দের
জোয়ার বইত।
তারা মাঝে মাঝে গান গাইত, পাশা খেলত, গল্প করত,
শীট নিয়ে কাড়াকাড়ি করত, সুখ- দুঃখের কাহিনী শেয়ার
করত ইত্যাদি। তারা বিভিন্ন রকম গান করত, কিছু গান
নিজেরা লিখে নিজেরা সুর দিত। এমন অনেক জন গান ও
ড্রাম বাজাইত মনে হয় প্রপেশনাল শিল্পীরা পর্যন্ত্য
হার মানবে। এই শাটল থেকেই জন্ম নিয়েছে নামকরা
শিল্পী পার্থবড়ুয়া,এস আই টুটুল, তীরন্দাজ ব্যান্ড সহ
আরো অনেকে।
,
যখন সে আমার চারদিকে চোখ বুলালো তখনি দেখতে
পেল শাটলের কাহিনী ঠিক আগের মতই আছে। মনে মনে
ভাবতে লাগল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ ভোমরা
শাটল কত প্রেমিক যুগলের সৃষ্টিকর্তা,, কত ঘটনার
স্বাক্ষী। শাটলের প্রেমিকের সংখ্যা হাজার হাজার,
কত লেখকের উপদান, ওর পেটে চড়েই হয়েছে কত
বিশ্বনন্দিত লেখক, গবেষক, সাহিত্যিক ইত্যাদি।
সমাবর্তনের দিন হাজার হাজার শিক্ষার্থী আমার পেটে
চড়তে এসেছে কার, প্যারাডো, বি এম ডব্লিউ ছেড়ে।
আমার ভালবাসা তারা কোনদিন ভুলতে পারে নি এবং
পারবে না।
আমার মাঝে মাঝে দুঃখ হয় যখন ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে
থাকে, যখন আমাকে একা পড়ে থাকতো হয়। দুঃখ হয় যখন
আমার নিচে একটি প্রাণ পিষ্ট হয়। দুঃখ হয় যখন আমাকে
ঘিরে রাজনীতি হয়,মারামারি হয়।
সামগ্রিক ভাবে আমি গর্ব করি, কারণ হজারো মেধাবী
শিক্ষার্থীরদের কোলাহলে পূর্ণ থাকে আমার পেট ও
পিঠ। হাজারো শিক্ষার্থীর গৌরবের বিষয় আমি, আমার
পেটে চড়ে কত প্রেমের সৃষ্টি, কত
গানের সৃষ্টি, প্রকৃতির মাঝে সুন্দর একটি উপদান, তাই
আমি শাটল।

—> হুমায়ূন কবির
আই ই আর
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

https://i2.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2017/06/colorful-train-of-chittagong-university.jpg?fit=358%2C228https://i0.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2017/06/colorful-train-of-chittagong-university.jpg?resize=150%2C150culiveক্যাম্পাস সৌন্দর্যchittagong university shuttle train,cu shuttle,শাটলের আত্নকথন,হুমায়ূন কবিরশাটলের আত্নকথন --------------------------- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৮০ সন থেকে আমার জন্ম, আমার পথচলা। বিশ্বে আমিই একমাত্র যা হাজার হাজার মেধাবী ছাত্রদের সুখ- দুঃখ, হাসি- কান্না, আনন্দ- বেদনার সাক্ষী। বয়স ৩৬ এর কৌটায় তবু কেউ আমায় বৃদ্ধ বলে ডাকে না। ট্রেনের মত আমার অনেক বগি রয়েছে, ট্রেনের মত আমিও যাত্রী বহন করি। তবে পার্থক্য হলো আমি শাটল অর্থাৎ সব ট্রেন...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University