তোমার সবচেয়ে বড় শুভাকাঙ্ক্ষী তুমি নিজে।

ফ্যামিলির নয় বরং নিজের সিদ্ধান্ত কিংবা ইচ্ছাটাকে বেশি গুরুত্ব দাও।
কেন? কারণ বলছি, শুনো।
সমাজ একটা মানুষের স্বাধীনতায় যতটা বাধার সৃষ্টি করে তার চাইতেও বেশি বাধা সৃষ্টি করে তার ফ্যামিলি বা পরিবার । কাউকে তার পূর্ন স্বাধীনতা দিলে সে গোল্লায় যাবে কিংবা কাউকে কয়েদিদের মতো করে রাখলে সে লাটবাহাদুর হবে এই টাইপের একটা মনোভাব নিয়ে আমাদের দেশের বেশিরভাগ ফ্যামিলি থাকে । আর সেজন্যই আজকের ইয়ং ছেলেমেয়েগুলোর মধ্যে কালকে সফল মানুষ হয় খুব কম সংখ্যকই । একটা দেশের মানুষ যদি উন্নত না হয় তবে দেশ কিভাবে উন্নত হবে?
একটা শিশু জন্মের পরপরই শুরু হয় ফ্যামিলিগুলোর জোচ্চুড়ি! নাম রাখার আগেই দৌড়াদৌড়ি করা হয় তাকে ডাক্তার বানাবে নাকি ইঞ্জিনিয়ার। কি আজব! সে তো বড় হয়ে ক্রিকেটারও হতে পারে। একটু সাপোর্ট পেলে যে ছেলেটা লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি হতে পারতো সে শুধুমাত্র ফ্যামিলির চাপে একসময় রাস্তায় রাস্তায় টিউবলাইট বিক্রির বিজ্ঞাপন দেয়! এরকম অনেক জয়নাল, হুমায়ুন, আলফাজ, সাকিব, মোশারফ, জেমসরা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে জব করে মাস শেষে বসের কাছ থেকে হাত পেতে টাকা নিয়ে বাসায় গিয়ে পরিবারের চোখে হিরো হয়! আহ! টাকা! শিশু যখন হাঁটতে পারে না তখন তাকে কোলে নিয়ে বাইরে ঘুরানো যায়, আর যখন একটু একটু হাঁটতে শিখে তখন তাকে বাইরে নেয়া যায় না এইসেই অজুহাতে! ঘরের ভিতর হাঁট! কিছুদিন আগে চট্টগ্রামে হয়ে যাওয়া ইউথফেস্টে একজন স্পিকার (নাম নিয়ে কনফিউজড) বলেছিলেন যে ছোটবেলা থেকে তিনি এত বেশি পরিমাণে “না” শব্দটি শুনে আসছেন যে এখন তার সবচেয়ে প্রিয় শব্দই এটা! আমাদের প্রায় সবার ক্ষেত্রেই আসলে এমনটা হয়ে আসছে। “আব্বু চকলেট খাবো” থেকে শুরু করে “আম্মু খেলতে যাবো পর্যন্ত” শিশুর প্রায় বেশিরভাগ কথা বা আবদারের বিপরীতে একটা উত্তরই আসে । আর সেটা হলো “না”। এটা করো না , ওটা করো না এসব তো আজীবনের কথা। বেশিরভাগ ফ্যামিলিই তাদের ছেলেমেয়েদের নির্দিষ্ট কিছু মানুষের সাথে মিশতে এমনকি কথা বলতে পর্যন্ত মানা করে। যেমন- এই ছেলের সাথে কথা বলা যাবে না, নাহলে খারাপ হয়ে যাবে!
আচ্ছা, সঙ্গদোষে দোষী না হয়ে সঙ্গগুনে গুণান্বিত করাও তো যায়! একটা খারাপ ছেলের সাথে মিশে খারাপ না হয়ে উল্টো ঐ ছেলেকে ভালোও করা যায়!
একটা ছেলেকে ঘরের বাইরে বেশিক্ষন থাকতে দেয়া হয় না রাজনীতি, নারী কিংবা কালো পথের ভয়ে! নন্দলাল যে কখনও মানুষ হতে পারে না এটা ফ্যামিলি বুঝবে না। আবার বেশিক্ষন ঘরে বসে থাকলেও অনেকে হয়ত কথা শুনায়। ছেলেগুলো পড়ে উভয় সঙ্কটে! একটা মেয়েকে বাইরে বের হতে দেয়া হয় না পশুদের ভয়ে। অথচ ঐ পশু রা যাতে উল্টো মেয়েটাকে ভয় পায় সেরকমভাবে কিন্তু তাকে গড়ে তোলা যায়!
টয়লেট বন্ধ করলে ডায়রিয়া নিরাময় হবে না। ওষুধ লাগে….
ফ্যামিলি যে ক্ষেত্রে অতিরিক্ত করে ফেলে সেটা হলো শিক্ষা! এই ক্ষেত্রে যখন আশেপাশের কারও সাথে তুলনা জুড়ে দেয় তখন তো কথাই নেই……..
ছেলেমেয়েগুলো একটু বড় হলেই শুরু হয় ফ্যামিলি থেকে ক্রিয়েট করা নানাবিধ চাপ! পড়ালেখা, টাকা, চাকরি, বিয়েসহ বিভিন্ন দায়িত্ব ও চাপে মনের মধ্যে চাপা থাকা স্বপ্ন চুপসে যায়! একজনের স্বপ্নকে লাথি মেরে উড়িয়ে দিয়ে জোর করে ভিন্ন কোনো নতুন স্বপ্ন দেখাতে চেষ্টা করে না এমন ফ্যামিলি খুব কমই আছে আমাদের দেশে।
একটা মানুষের সবচেয়ে কাছের মানুষ হলো তার ফ্যামিলি বা পরিবারের মানুষজন। সে যেমন পরিবারকে সবকিছুর আগে ভালোবাসে তেমনি ফ্যামিলিও।
ফ্যামিলি অবশ্যই সবসময় আমাদের ভালো চায়, চেয়েছে, চাইবে। তবে আমরা কিভাবে ভালো থাকবো সেটা কখনই বুঝতে চাইবে না।
তোমার সবচেয়ে বড় শুভাকাঙ্ক্ষী তুমি নিজেই।

I.K. Shakil
Department of Public Administration.
2016-17.
University of Chittagong.

culiveউদ্দীপনাক্যারিয়ারতরুণ স্টাইলফ্যামিলির নয়,শুভাকাঙ্ক্ষী,স্বপ্নতোমার সবচেয়ে বড় শুভাকাঙ্ক্ষী তুমি নিজে। ফ্যামিলির নয় বরং নিজের সিদ্ধান্ত কিংবা ইচ্ছাটাকে বেশি গুরুত্ব দাও। কেন? কারণ বলছি, শুনো। সমাজ একটা মানুষের স্বাধীনতায় যতটা বাধার সৃষ্টি করে তার চাইতেও বেশি বাধা সৃষ্টি করে তার ফ্যামিলি বা পরিবার । কাউকে তার পূর্ন স্বাধীনতা দিলে সে গোল্লায় যাবে কিংবা কাউকে কয়েদিদের মতো করে...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University