সাকিব ও মোহাম্মদউল্লার দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে বিজয় ছিনিয়ে আনল বাংলাদেশ

 

ঐতিহাসিক ব্যাটিংয়ে দুর্দান্ত ইতিহাস গড়লেন সাকিব আল হাসান ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের ২৬৫ রানের জবাব দিতে ২২৪ রানের জুটি গড়েছেন তারা। যা বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ওয়ানডে জুটির নতুন রেকর্ড। তাদের ব্যাটেই এসেছে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের প্রথম দুইশ রানের জুটি। যে জুটিতে ভর করে এক যুগ পর আবার কার্ডিফে এসেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের আরো একটি সোনায় মোড়ানো জয় .

২৬৬ রানের লক্ষ্য পূরণ করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ছিলো এক কথায় ‘ভয়ানক’। কোনো রান না করেই এ দিন তামিমকে হারায় বাংলাদেশ। এরপর ১০ রানে যায় দ্বিতীয় উইকেট। ১২ রানে পড়ে যায় তিন নম্বর এবং দলীয় রান ৪৪ রান হতে না হতেই চতুর্থ উইকেটও হারায় বাংলাদেশ।

এই পরিস্থিতিতে দর্শকরা যখন করুণ হারে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে বিদায় নেয়ার লজ্জার শঙ্কায় মুখ ঢাকতে বসেছিলেন, তখনই অসামান্য দৃঢ়তা নিয়ে দাঁড়িয়ে যান সাকিব ও মাহমুদুল্লাহ। ধীরে গড়তে থাকেন জুটি এবং ভেঙে দেন ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ড।

জুটিতে ২২৪ রান হওয়ার পর হঠাৎ করেই ট্রেন্ট বোল্টের অবিশ্বাস্য এক সুইংয়ে বোল্ড হয়ে ১১৫ বলে ১১৪ রান করে ফেরেন সাকিব। কিন্তু উইকেটে দারুণ দৃঢ়তা নিয়ে টিকে থাকেন মাহমুদুল্লাহ এবং বাংলাদেশকে জিতিয়েই ফেরেন তিনি। ১৬ বল হাতে রেখে পাঁচ উইকেটে জিতে যায় বাংলাদেশ। এই জয় বাংলাদেশের সেমিফাইনালের পথ আরো প্রশস্ত করে তুললো।

১২ বছর আগে এই কার্ডিফেই অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিশ্ব কাঁপিয়ে দিয়েছিলো বাংলাদেশ। ১২ বছর সেই কার্ডিফ আবার দুই হাত ভরে দিলো বাংলাদেশকে এবং অবশ্যই সেটা এলো সাকিব ও মাহমুদুল্লাহর অবিস্মরণীয় ব্যাটিংয়ে।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে সবচেয়ে সফল, সবচেয়ে আলোচিত, সবচেয়ে সমালোচিত ব্যক্তির নাম সাকিব আল হাসান। এ দেশের দর্শকের ক্রিকেটের প্রতি আবেগ একটু বেশিই কিনা তাই সামান্য অফ ফর্মেও সমালোচনার ঝড় শুরু হয়ে যায় যেকোন খেলোয়াড়ের প্রতিই। আর ব্যক্তিটি যখন সাকিব আল হাসান, সেই সমালোচনার পরিমাণ টাও হবে বেশি।

সাকিব আল হাসান এবং অফ-ফর্ম শব্দ দুটি একই বাক্যে একটু দৃষ্টিকটুই লাগে। কারণ গত দশ বছরে প্রায় নয় বছর সময় ধরে সাকিব আল হাসান কে অফ ফর্মে দেখা যায়নি বললেই চলে।

কোন ম্যাচে রান পান নি তো উইকেট নিয়ে পুষিয়ে দিয়েছেন, উইকেট পাননি তো রান করে অবদান রেখেছেন, ফিল্ডিং এ বাংলাদেশের সেরা খেলোয়াড়দের একজন এই সাকিব। অথচ গত কয়েক সিরিজেই উইকেট খরায় যেমন ভুগেছেন, তেমনি ঠিক মিলছিল না ব্যাটে বলেও। কেউ কেউ তো সাকিব অধ্যায়ের সমাপ্তিই টেনে দিয়েছেন ইতোমধ্যে। আবার তাঁর বিকল্প খোজার কাজও শুরু হয়ে গিয়েছিল।

আর মাহমুদউল্লাহ – তিনি তো পুরো ক্যারিয়ার জুড়েই ছিলেন অন্যের ছায়া হয়ে। লাইম লাইটে ২০১৫ বিশ্বকাপ ছাড়া আর আসেন নি কখনও। বাংলাদেশের সব জয়ের ম্যাচে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পাশাপাশি যদি পার্শ্বনায়কের রেকর্ডও থাকত তবে রিয়াদের নামটাই বোধহয় সবচেয়ে বেশি আসবে। নিভৃতে তিনি যতটা ভরসায় আগলে রেখেছেন বাংলাদেশের মিডল অর্ডার , ঠিক ততটাই যে কোন ভুলে নির্মম সমালোচনার শিকার হয়েছেন বারবার। কিন্তু আজ আবার বুঝিয়ে দিলেন উস্তাদের মাইর শেষ রাইতে।

https://i0.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2017/06/SAKIB-AND-MUHAMMAD-ULLAH-b-.jpg?fit=600%2C450https://i0.wp.com/culive24.com/wp-content/uploads/2017/06/SAKIB-AND-MUHAMMAD-ULLAH-b-.jpg?resize=150%2C150Hasnat HasnatMediaচ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি,বাংলাদেশ ক্রিকেটে,বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ড,মাহমুদুল্লাহ,সাকিব আল হাসানসাকিব ও মোহাম্মদউল্লার দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে বিজয় ছিনিয়ে আনল বাংলাদেশ   ঐতিহাসিক ব্যাটিংয়ে দুর্দান্ত ইতিহাস গড়লেন সাকিব আল হাসান ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের ২৬৫ রানের জবাব দিতে ২২৪ রানের জুটি গড়েছেন তারা। যা বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ওয়ানডে জুটির নতুন রেকর্ড। তাদের ব্যাটেই এসেছে ওয়ানডেতে...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University