“উচ্চ শিক্ষার ২০ বছর মেয়াদী কৌশলপত্র” কি বাস্তবায়নের পথে!!!!চাকরি করা ছাড়াও সুন্দর আয় করা

গত ৩০ শে মার্চ বৃহস্পতিবার এনজিও প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রাক – বাজেট নিয়ে আলোচনায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সম্বন্ধে অর্থমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য শুনে মনে পড়ে গেল বিএনপি সরকারের আমলে ইউজিসির ২০ বছর মেয়াদী কৌশলপত্রের কথা।

রাষ্ট্রীয় সেবাখাত সমূহকে বেসরকারিভাবে লাভজনক খাত হিসেবে গড়ে তোলতে ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ সরকার ‘ General Agreement on Trade in service (GATS) এ স্বাক্ষর করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে বিএনপি সরকারের আমলে ইউজিসি ‘ উচ্চ শিক্ষার ২০ বছর মেয়াদী কৌশলপত্র ‘ প্রণয়ন করে।
উক্ত কৌশলপত্র যদি বাস্তবায়িত হয় তাহলে গরীব শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষা নাগালের বাইরে চলে যাবে। কিভাবে উচ্চশিক্ষা শুধু ধণীদের পকেটে যাবে তা আমি একটু পর লিখছি। তার আগে ইউজিসির কৌশলপত্রে কি ছিল তার একটু সংক্ষিপ্ত ধারণা দিতে চাই –
ইউজিসির কৌশলপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে ২০০৮ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে দেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বরাদ্ধ ৯০% থেকে কমিয়ে ৭০% এ হ্নাস করা হবে। এর ঘাটতি পূরণের জন্য ২০০৮ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ৩ ধাপে বেতন বৃদ্ধি করা হবে। ফলে ২০২৬ সালের মধ্যে সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে যাবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো। কৌশল পত্রে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগকে লাভজনক বিনিয়োগ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এনজিও প্রতিনিধিদের সাথে প্রাক -বাজেট নিয়ে আলোচনায় বলেন ‘ যেসব সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন ও টিউশন ফি ১২ থেকে ২০ টাকার মধ্যে সেগুলো বাড়িয়ে আগামী বাজেটে ৫ গুণ করা হবে। দেখি কী প্রতিক্রিয়া হয়। ‘ উনার এ উক্তি দ্বারা নি:সন্দেহে বুঝা যায় ইউজিসির কৌশলপত্র খুব শিগ্রই বাস্তবায়নের পথে।
দেশের শিক্ষাব্যবস্থার দিকে যদি আমরা লক্ষ্য করি তাহলে দেখা যায় দেশে টাকার দামে শিক্ষা বিক্রি হয়। যাদের টাকা আছে সেসব অভিভাবকের সন্তানরা ভালমানের শিক্ষা নিশ্চিত করে আর যাদের টাকা নেই তাদের জন্য পড়ালেখা অফশনাল বিষয়ের মতো। এই গরীব শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা কষ্ট করে মনের স্পৃহা, আত্মবিশ্বাসের সহিত এগিয়ে যায় তাদের জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এক আশীর্বাদ স্বরুপ। কারণ তারা কম টাকায় ভালোমানের শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারে এবং তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে একধাপ এগিয়ে যায়।
খেয়াল করলে দেখা যাবে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে খরচের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি হয় তাহলে তাদের লেখাপড়া ছেড়ে দিতে হবে বাধ্য হয়ে। কারন এখন তারা নিজের খাদ্য বাসস্থান এবং বইপত্র কিনা ইত্যাদির জন্য একজন শিক্ষার্থীকে টিউশন বা পার্টটাইম জব করতে হয়। আর এখন যদি ভার্সিটিতে টিউশন ফি বাড়ানো হয় তাহলে তাদেরকে পুল টাইম জব করতে হবে। আমি একজন নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে আমি বুঝি গরীব শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণে কতটুকু বেগ পোহাতে হয়। ক্লাস শেষে একজন শিক্ষার্থী যে সময়টুকু বিশ্রাম নিবে, গবেষণা করবে বা পড়বে সে সময়টুকু একমুঠো খাওয়ার জন্য কতই না কষ্ট করতে হয়। এত কষ্ট করেও দিনশেষে তারাই সফল।
আশা করি মাননীয় অর্থমন্ত্রী গরীব শিক্ষার্থীদের বিষয়টুকু আমলে নিবেন। যদি এ কৌশল পত্র বাস্তবায়ন হয় তবে বিলীন হয়ে যাবে হাজার স্বপ্ন, হাজারো সফল মুখ।
লেখক – হুমায়ূন কবির
শিক্ষার্থী
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং
সিনিয়র এক্সিকিউটর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় স্টাডি ফোরাম।

CoxsBazar Techক্যারিয়ারস্টাডি'উচ্চ শিক্ষার ২০ বছর মেয়াদী কৌশলপত্র' কি বাস্তবায়নের পথে!!!! গত ৩০ শে মার্চ বৃহস্পতিবার এনজিও প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রাক - বাজেট নিয়ে আলোচনায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সম্বন্ধে অর্থমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য শুনে মনে পড়ে গেল বিএনপি সরকারের আমলে ইউজিসির ২০ বছর মেয়াদী কৌশলপত্রের কথা। রাষ্ট্রীয় সেবাখাত সমূহকে বেসরকারিভাবে লাভজনক খাত হিসেবে গড়ে তোলতে...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University