আরাফাত আবদুল্লাহ : মেয়েটি পরিবারের অমতে গিয়ে একটা বেকার ছেলেকে বিয়ে করেছিল। ডাক্তার, বিসিএস ক্যাডার, মোটা বেতনের ব্যাংকার এসব কিছুই তাকে টলাতে পারে নি। ঠিকই গিয়ে নিজের ভালোবাসার মানুষটার সঙ্গে সংসার পেতেছে।

নিত্য অভিযোগ সেই সংসারের প্রতিদিনকার বিষয়।
বাংলা ছবির ট্রাজেডিক মুহূর্ত নয়। বরং তার থেকেও ভয়ংকর। লোকজন মুখ টিপে হাসে। বেকার ছেলের ঘরে সুন্দরী বউ! থাকবে তো? নাকি ডিভোর্স দিয়ে চলে যাবে? ওরা মানুষের কথায় কান দিতো না। নিজেরা নিজেদের মতো থাকতো।

সদ্য বিবাহিত দম্পতির রাত যখন কাটে রোমান্টিক গল্পে, তখন ওদের রাতটা কাটতো পড়াশোনা করে। ছেলেটা রাত জেগে চাকরির পড়াশোনা করে। মেয়েটাও স্বামীর সাথে পাল্লা দিয়ে জেগে থাকে।

এক মাস, দুই মাস… তিন মাস করে বছর কেটে যায়। চাকরি আর ধরা দেয় না। দুঃসময়ের সঙ্গী হতে আয়ের ছোট খাটো উৎসটাও যেন বন্ধ হওয়ার পথে।
ছাত্রজীবনে টিউশনি করে জমানো টাকা।
বাবার দেয়া কিছু টাকা।

আর বিভিন্ন ওয়েবসাইটে লিখে যা কিছু ইনকাম করেছে সবই সংসারের পেছনে ঢেলেছে। একটা আত্মীয়ের বাসার চিলেকোঠায় আছে বলে এই এক বছর বাসা ভাড়াও লাগেনি। এখন মনে হয় সামনের বছর থেকে বাসা ভাড়াও লাগবে। আত্মীয় মুখ ফুটে কিছু বলেনি। আকার ইঙ্গিতে বুঝিয়েছে।

কোন এক ভরসায় মাথার উপর এখনো খোলা আকাশ আছে। কোনদিন না জানি সেই খোলা আকাশটাও ভেঙে পড়বে। জীবনটা নাটক হলে ভালোই হতো। সেখানে বেকার জামাই আর সুন্দরী স্ত্রী মিলেও সুখের সংসার করতে পারে। বাস্তবে সেটা অনেক কঠিন।

ছেলেটার চোখ ফেটে কান্না আসতে চায়!
তাহলে কি বউ তাকে ছেড়ে চলে যাবে?
একসাথে আর থাকা হবে না কখনো?

জীবনটা সুন্দর! কিন্তু আজকে কেমন জানি খারাপ লাগছে। খুব বেশি খারাপ লাগছে। বলার ভাষা নেই। একেবারেই নেই।

গল্পটা শেষ করি নাই। ওখানেই স্টপ থাকুক।
এমন ট্রাজেডি আমরা বাংলা নাটক, সিনেমায় দেখতে পারি। বাস্তবে এটা হয় না। বাস্তবে কোন প্রেমিকা বেকার ছেলেকে বিয়ে করবে না। তার ফাস্ট প্রায়োরিটি থাকবে প্রতিষ্ঠিত ছেলে। এক সময় সে আপনার প্রেমিকা ছিল। এখন সে আপনার ভাবী। মানতে কষ্ট হলে কিছু করার নাই। গল্পটা তাদের উদ্দেশ্যেই বললাম, যারা পড়াশোনা করতে বসে ১০ মিনিট পড়াশোনা করেন আর ৫০ মিনিট প্রেমিকার সাথে ফোনালাপ করেন। সেই ফোনালাপে ভবিষ্যৎ ঠিক করেন। বাচ্চার নাম ঠিক করেন। সব কিছুই ঠিক আছে। খালি পড়াশোনাটা ঠিক নাই।

অতঃপর নামমাত্র একটা জিপিএ নিয়ে যখন কপর্দক শূন্য অবস্থায় প্রেমিকার সামনে দাঁড়াবেন তখন আপনার শেষ ভরসা তাহসানের নাটক আর আলমগীর -শাবানার সিনেমা। ওই সকল নাটক সিনেমাতে বেকার ছেলেদের সুন্দরী বউ প্রাপ্তি নিশ্চিত। কিন্তু বাস্তবে এইসব সম্ভব না।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে জীবনের গল্প বলা যতো সহজ, বাস্তবে সেই গল্পের নায়ক নায়িকা হওয়া ততোটাই কঠিন। পড়াশোনা এবং প্রেমিকা এক সাথে চলতে পারে না। প্রেমিকা আপনার কাছে সময় চায়। পড়াশোনাও আপনার কাছে সময় চায়। আপনিই ঠিক করুন কোনটাকে সময় দেবেন। আপনার দেয়া সময়ই নির্ধারণ করবে আপনার জীবনের গল্প…

অারাফাত আবদুল্লাহ
(মধ্যরাতের অশ্বারোহী )
University Of Chittagong

C: campuslive24

study vs love
Study vs career
culiveউদ্দীপনাক্যাম্পাসক্যারিয়ারUniversity of Chittagong,অারাফাত আবদুল্লাহ (মধ্যরাতের অশ্বারোহী ),জীবনের গল্প,ডাক্তার,বিসিএস ক্যাডার,মোটা বেতনের ব্যাংকারআরাফাত আবদুল্লাহ : মেয়েটি পরিবারের অমতে গিয়ে একটা বেকার ছেলেকে বিয়ে করেছিল। ডাক্তার, বিসিএস ক্যাডার, মোটা বেতনের ব্যাংকার এসব কিছুই তাকে টলাতে পারে নি। ঠিকই গিয়ে নিজের ভালোবাসার মানুষটার সঙ্গে সংসার পেতেছে। নিত্য অভিযোগ সেই সংসারের প্রতিদিনকার বিষয়। বাংলা ছবির ট্রাজেডিক মুহূর্ত নয়। বরং তার থেকেও ভয়ংকর। লোকজন মুখ টিপে হাসে।...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University