খোলা চিঠি,
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

open letter
আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সামান্য ছাত্র,আমার এত কোন নাম ডাক নাই।
তবুও আমি কি প্রশাসনকে কিছু বলতে পারব কি?প্রশ্ন ছিল। মল্লিক ভবনে গিয়ে কথা বলার ক্ষমতা নাই,তাই বাধ্য হয়ে অনলাইনে শেয়ার করছি কিছু কথা।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের অহংকার শাটল,এই শাটল আমাদের এক অনুভূতির নাম।
কিন্তু এই শাটল এখন দিন দিন বিরূপ অনুভূতির কারণ হয়ে দাড়াচ্ছে নয় কি?
আমি জানি,শাটল বাংলাদেশ রেলওয়ের হয়ে ভাড়া চালিত যান।
দুইটি শাটলের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছর রেলওয়েকে ৪৪ লাখ টাকা ( বর্তমানের সঠিক অংক জানা নেই) দেয়।
রেলওয়ের দুইটি রেল যা শাটল নামে পরিচিত ৯টি করে বগি নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে আসা যাওয়া করার কথা।
কিন্তু ৯টি নয় ৬/৭ টি বগিই আসে।
আমি আজকে শাটলের দুর্ভোগের কথা বলব না।কারণ এই নিয়ে আগে অনেকেই অনেক কথা বলেছে।
আমি আজ ভিন্ন কথা বলব।
২০ ই মার্চ সোমবার ২০১৭ ইং,
আজকে দুপুর ১.৩০ এর ট্রেনে কাঁটা পড়ে একজন বৃদ্ধ মরল।
বৃদ্ধের দোষ না হয় মানলাম আমি,কারণ সেই কেন আসল ট্রেনের রাস্তায় অসতর্ক হয়ে।
ফলাফল মাথা কাটা মৃত্যু।
এই মৃত্যু আর আর কোন দুর্ঘটনার কারণ হবে কি ভেবেছেন প্রশাসন?
আমি সেই বৃদ্ধের ছেলে হয়ে বলছি,আপনাদের শাটল আমার বাবার প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।
আমিও আপনাদের শাটলের যাত্রীর প্রাণ কেড়ে নিবো।এই রকম কোন শপথ কেউ নিচ্ছে কি আপনি ভেবেছেন?
আমি ভেবেছি,
কারণ কয়েকদিন পর পর কেনো ছোঁড়া ঢিলের আঘাতে কোন ছাত্রের কপাল ফেটে যায় আবার কারো চোখের আলো চলে যায়।
কেন শুনি এসব?ভাবুন।
এই শাটল কারো ক্ষতি না করলে সেই নিশ্চয় শাটলের ক্ষতি করবে না?
আপনি টোকাই ঢিলে মারে দুষ্টুমি করে এই কথা বলে সহজে উড়িয়ে দিতে পারেন।
আমি মাঠ পর্যায়ক্রমে হেঁটে দেখেই এই কথাই বলেছি।
একটা মানুষরে গরু মেরে ফেলেছি ডেমু ট্রেন,তখন থেকে মানুষটা ডেমু দেখলে রাগে ফেটে পড়ত।
স্বভাবত প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে অনেকেই শাটলের যাত্রীদের ক্ষতি করতে ইচ্ছুক হয়।
এসব উদাহরণ।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু দেশের শীর্ষ স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
সেহেতু এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যাতায়াত রাস্তাটা কি নিরাপদ হতে পারে না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন?
প্রশাসন আপনি বলবেন বাজেট নাই বিধায় শাটল নিয়ে সকল সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়।
কিন্তু কিছু ত্যাগ করে তো এই সমস্যার সমাধান তো করা যায়।
ষোলশহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেনের রাস্তা দুই লেইন এবং রাস্তার দুই পাশে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা যায় না?
যাতে ট্রেনও নিরাপদে চলল,কেউ ঢিল মেরে ট্রেনের কাউকে আহতও করতে পারল না,কোন এলাকাবাসীও ট্রেনের রাস্তায় কাঁটা পড়ল না, এবং বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্ট ছাড়া ঐ ট্রেনে আর কেউ উঠতে পারল না।
বিশ্ববিদ্যালয় শাটল শরণার্থীদের ট্রেন না হয়ে নিরাপত্তা প্রাচীরের মধ্যদিয়ে মেধাবীদের বয়ে নিয়ে যাবে।
প্রশাসন আপনি কখনো কল্পনা করেছে এই রকম কিছু?
আমি করি।
যদি উত্তর শুনি বাজেট নাই,রেলওয়ে কতৃপক্ষ দিচ্ছে না এসব তখন বলব,সব সময় খবরেরকাগজে দেখে এসেছি বাংলাদেশ রেলওয়ে ভূর্তুকি দিচ্ছে প্রতিবছর লস খাচ্ছে।
কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় শাটল তো লস খাওয়ার প্রশ্নই আসে না,কারণ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রছাত্রীদের থেকে আদায়কৃত ভাড়া পরিশোধ করছে তাহলে লস কেন খাবে?
প্রয়োজন হলে আমাদের নিকট বাৎসরিক পরিবহন ভাড়া বাড়িয়ে নিন।
তবুও লস নামক শব্দ নয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যক্তিরা যদি এসি রুমের অফিস,গাড়ী ও বাড়ীতে বসে শুধু একাডেমী দায়িত্ব পালন করলে তবে চাকরী যাওয়ার পর আর কেউ মনে রাখবে না।
এমন কিছু অবদান যদি এই দায়িত্ব থাকা অবস্থায় দিয়ে তবে চবি যতদিন থাকবে ততদিন মনে রাখবে সবাই।
ষোলশহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন পর্যন্ত দুই লেইনের রাস্তা এবং দুই পাশেই সীমানা প্রাচীর করতে কত টাকা লাগবে??
২০ কোটি টাকা!
বাংলাদেশ রেলওয়েকে বাধ্য করুন এই ব্যাপারে। না পারলে মাননীয় প্রাধানমন্ত্রী আছে,ওনার কাছে যান ২৩ হাজার ছাত্রছাত্রীর পিতা হয়ে।
মাননীয় প্রাধানমন্ত্রী তো একজন ক্লাস ফাইভের ছাত্রের কথা শুনে তাকে তার স্কুল ভবন দিতে রাজী হয়েছে।
আপনি তো একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান আপনার কথা নিশ্চয় ফেলবেন না।
আর মাননীয় প্রাধানমন্ত্রী কারো কথা ফেলেছে আমি ১০ বছরে দেখিনি।
তাতেও কাজ না হলে প্রতিবছর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নিজস্ব বাজেট হয় তা দিয়ে এসব করা যায়।
পর পর দুই বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল অনুষ্ঠান বন্ধ রাখুন,কোন টিচার বিদেশে যাবে না বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ খরচ করে।কোন নতুন টেন্ডার হবে না।
সকল শিক্ষক বাসই টানা দুই বছর বন্ধ থাকবে।টানা দুই বছর বার্ষিক ক্রীড়ার খরচ বন্ধ।কোন ডিপার্টমেন্টে শিক্ষা সফরের খরচ দিবে না।
এই দুই বছর শুধু পড়ালেখা করতে বিশ্ববিদ্যালয় আসবে আর যাবে।শুধু গবেষণার জন্য খরচ করবে।
বাকী আনুষ্ঠানিক ও অ-আনুষ্ঠানিক সকল খরচ বন্ধ।
কোন প্রকার উন্নয়ন ঘটবে না বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে,কোন সাজগোজ করবে না বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।
দুই বছর শাটল বন্ধ,ছাত্র ছাত্রীরা নিজ খরচে যাতায়াত করবে।
শুধু শিক্ষক কর্মকর্তা তাদের বেতন গুলোই পাবে। বাড়তি সকল অর্থ ফান্ডে জমা হবে।
টানা দুই বছরে এত ত্যাগ দেওয়ার পর ২০ কোটি টাকার চেয়ে বেশি টাকা জমবে বিশ্ববিদ্যালয় ফান্ডে।
যদি তাতেও না হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রত্যেকটি ছাত্রছাত্রী নিজস্ব ফান্ড বানাবে।
এবার সেই টাকা দিয়ে রেলের ডবল লেইনের জমি অধিগ্রহণ করুন,রেল লাইন বসান এবং সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করুন।
বিশাল অর্জন হয়ে যাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনেরর এটা।
বাংলাদেশ সরকার যদি ২ বছর টাকা জমিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু বানাতে পারে তাহলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এটা পারবে না কেন?????
তবুও আমাদের ও আমাদের পরবর্তী প্রজন্মদের বিশ্ববিদ্যালয় যাতায়াত নিরাপদ মূলক এবং স্বস্তিদায়ক হোক।
(মিজানুর রহমান নোবেল,
শিক্ষার্থী, চবি।।)

culiveBlogUncategorizedক্যাম্পাসক্যাম্পাস সৌন্দর্যক্যারিয়ারopen letter cu.খোলা চিঠি,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটলখোলা চিঠি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সামান্য ছাত্র,আমার এত কোন নাম ডাক নাই। তবুও আমি কি প্রশাসনকে কিছু বলতে পারব কি?প্রশ্ন ছিল। মল্লিক ভবনে গিয়ে কথা বলার ক্ষমতা নাই,তাই বাধ্য হয়ে অনলাইনে শেয়ার করছি কিছু কথা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের অহংকার শাটল,এই শাটল আমাদের এক অনুভূতির নাম। কিন্তু এই শাটল এখন দিন...Think + and get inspired | Priority for Success and Positive Info of Chittagong University